বিপিডিবি ও সার কারখানায় সর্বাধিক বকেয়া, বিল আদায়ে পেট্রোবাংলার উদ্যোগ
দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের বকেয়া গ্যাস বিল ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারের (আইপিপি) কাছে বকেয়া রয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনস্থ সরকারি সার কারখানার কাছে রয়েছে ২৩০০ কোটি টাকার গ্যাস বিল।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারের মতে, শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বেশি হলেও পাওনা আদায়ের হারও বেশ ভালো। তবে, গ্যাস ব্যবহার অব্যাহত থাকলে বিবিয়ানার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে মজুদ কমছে। এই ঘাটতি মোকাবেলায় ৫০টি কূপ খনন করা হচ্ছে এবং ১০০টি নতুন কূপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, স্থলভাগ ও সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা হচ্ছে।
বিল আদায়ে আন্ত মন্ত্রণালয় সভার প্রস্তাব
বকেয়া বিল আদায়ে পেট্রোবাংলা আন্ত মন্ত্রণালয় সভার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাথে আলোচনা করছে। শিল্প খাতে বর্তমানে ৩৫৪টি নতুন সংযোগের আবেদন জমা রয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আবাসিক খাতে নতুন সংযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে অভিযান ও জনসচেতনতার উদ্যোগ
গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা ২০২৩ সালে ১৮৬টি অভিযান চালায়, যার মাধ্যমে ২,১৯,২৬৫টি চুলার সংযোগ এবং সাতটি শিল্প গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে দিনে প্রায় দুই কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৯৫টি অভিযান পরিচালিত হয়, যার মধ্যে সোয়া লাখ চুলার সংযোগ এবং ৭৪টি শিল্প সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে দিনে এক কোটি ৪১ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
পাইপলাইন প্রতিস্থাপনের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উদ্যোগে গ্যাস পাইপলাইনের প্রতিস্থাপন কাজের জন্য আজ বৃহস্পতিবার ফার্মগেটসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকায় আট ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
ট্যাগ:
- গ্যাস বকেয়া বিল
- পেট্রোবাংলা
- বিপিডিবি
- গ্যাস উৎপাদন
- অবৈধ সংযোগ
- তিতাস গ্যাস